তারুণ্যের অহংকার গোপালগঞ্জের মেয়ে তানিয়া হক শোভা

শুভ খান প্রধান প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন ১নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তানিয়া হক শোভা। তানিয়া হক শোভা বাংলাদেশ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক
তানিয়া হক শোভার জীবনের গল্প: যখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি তখন আমার চাচা এম খায়ের সাহেবের কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা যেমন, তোফায়েল আহমেদ, মুকুল বোস, আমির হোসেন আমু আংকেলরা আমাদের বাসায় নিয়মিত যাওয়া-আসা করতেন। আমি তখন তেমন কিছুই বোঝতাম না। উনারা যখন বাসায় আসতেন তখন মা অনেক বড় বড় পাতিলে চা বানাতেন, আমি বিষয়টা খুব এনজয় করতাম। আবার রাতে যখন ঘুমাতে যেতেন তখন উনাদের সাথে ঘুমানোর জন্য আমি আগে থেকেই বিছানায় বালিশ নিয়ে রেখে দিতাম। উনাদের সাথে ঘুমানোটা ছোটবেলায় মনের মধ্যে একটা অন্যরকম ভাললাগার অনুভূতি কাজ করতো। উনাদের সান্নিধ্য, পিতৃতুল্য আদর, স্নেহ-ভালোবাসা আমার শিশু মনে দোলা দিতো। ভাল লাগতো। তখন ওই অবস্থায় মনে হতো আমিও বড় হয়ে একদিন আংকেলদের মতো দেশের জন্য রাজনীতি করবো। মানুষের সেবা করবো। এভাবেই নিজের জীবনের শৈশবের গল্প বলছিলেন অদম্য আত্মপ্রত্যয়ী নারী তানিয়া হক শোভা। তিনি বাংলাদেশ যুব মহিলালীগের একজন আস্থার প্রতীক ও স্বচ্ছ রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের ১ নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, বাংলাদেশ যুব মহিলালীগ কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মুকসুদপুর উপজেলা যুব মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পাশাপাশি সম্মিলিত সংগীত শিল্পী সোসাইটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি সিএনএন বাংলা টিভির প্রধান প্রতিবেদক, এর সাথে দীর্ঘ আলাপে উঠে আসে তার জন্মভূমি গোপালগঞ্জে কৈশোরের স্বর্ণালী দিনগুলোর কথা, সময়ের পালাবদলে পড়ালেখা, রাজনীতিতে জড়ানো, উদ্যোক্তা জীবনের পথচলা শুরুর গল্পসহ এসব নিয়ে বর্তমান হালচাল ও ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুরের বাঁশবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তানিয়া হক শোভা। বাবা আওলাদুল হক মিয়া (মরহুম) একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মুকসুদপুরের বাঁশবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মা মনোয়ারা চৌধুরী মিনু বর্তমানে তেজগাঁও থানা মহিলালীগের সহ-সভাপতি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পরোক্ষভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন এবং দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতি করে আসছেন তার মা। চাচা আবুল খায়ের (মরহুম) স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গোপালগঞ্জ-১ এর প্রথম সংসদ সদস্য ছিলেন।
শোভা বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের ও প্রিয় সন্তান। তাছাড়া বাবা-মায়ের যে আর কোনো ছেলে-মেয়ে নেই এই বিষয়টা যাতে তারা কখনো অনুভব করতে না পারেন এর জন্য যা করতে হয় ঠিক তাই করবেন বলে ছোটবেলা থেকে সিদ্ধান্ত নেন শোভা। তিনি বলেন, আমার বাবা-মায়ের যদি ১০টা ছেলে থাকতো তারা যে কাজ করতো আমিও বড় হয়ে একাই সে কাজ করবো বলে ছোটবেলা থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছি। বাবা-মা যাতে তাদের ছেলে-মেয়েদের অভাবটা বুঝতে না পারেন সে কাজটা করার চেষ্টা করেছি আর এখনো করে আসছি।
এ বিষয়ে ছোটবেলার কথা স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছোটবেলায় যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্কুলে কোনো প্রোগ্রাম হলে সব ফ্রেন্ডদের সাথে নিয়ে সেগুলো আয়োজন করা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম হতো সেখানে অভিনয় করা, যেকোনো বিশেষ দিবসে বাবার কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিয়ে সবাইকে খাওয়ানো এসব বিষয়গুলো আমার তখন থেকেই করতে খুব ভাল লাগতো। শোভার বাবা একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন। পাকিস্তান আমলে ঢাকার চারজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কন্ট্রাক্টরের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। সেই সুবাদে রাজধানীতেই থাকা হতো তাদের। রাজনীতি ও ব্যবসায়ী পরিবেশ পরিমন্ডলে কেটে যায় শোভার শৈশবের স্বর্ণালী দিনগুলো। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে পাস করার পরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের উপরে এমবিএ সম্পন্ন করেন শোভা। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক মেনেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্সে শেষ সেমিস্টার এবং একই সাথে ধানমন্ডি ল কলেজ থেকে ল বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। এবিষয়ে শোভার ভাষ্য, আমার বাবা সবসময় চাইতেন আমি যেনো পড়াশোনা করে অনেক বড় হই। বাবা জীবিত থাকাকালে বলতেন, আমি যদি কখনো মরে যাই, তখন আমি দেখতে চাই আমার মেয়ে কবরে গিয়ে বলবে যে, বাবা দেখো তোমার মেয়ের হাতে এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের সবগুলো সার্টিফিকেট আছে। এই কথাটা আমার খুব বেশি মনে পড়ে। আর এর জন্য আমি সব সময় সবাইকে বলি যে আমার বাবার এই ইচ্ছেটা আমি পূরণ করবোই।