শীতে ত্বকের যত্ন

cnnbangla.com.bd:শীত (Winter) মানে শুধুই রুক্ষশুস্ক মলিন, পাতাঝরার দিন? প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিবর্ণ আপনিও? প্রকৃতিকে আপন করে বরং শীতকে অভ্যর্থনা জানান ভেষজ উপায়ে। আয়ুর্বেদের (Ayurveda) ছোঁয়ায়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। ঘরোয়া ভেষজ উপকরণে, রোজের রূপচর্চায় জেল্লা বাড়ুক ত্বকের।  আপাদমস্তক সতেজতার বর্মে ঢেকে রাখুন নিজেকে। যাতে হিমেল হাওয়া দাঁত ফোটাতে না পারে আপনার সৌন্দর্যে।

 শীত আসুক, সঙ্গে আসুক আয়ুর্বেদ

সৌন্দর্যের জোয়ারে ভাটার টান কেন ধরবে শীতে? যেখানে ভেষজ যত্ন নিলেই মাথা থেকে পায়ের পাতা তারুণ্যে ঝলমলিয়ে ওঠে যেকোনও মরশুমে—

১. ত্বক পুরো মাখন

শুকনো দিনে বাড়তি আর্দ্রতা চায় ত্বক। তার জন্য সারা বছরের ময়েশ্চারাইজার নয়, মেখে নিন, শিয়া-কোকুম-কোকনাট বাটার। যা ভারী পরত টানবে ত্বকের ওপর। সহজে আর্দ্রতা নষ্ট হবে না।

২. তেলেজলে স্নান

গ্রীষ্মপ্রধান দেশ বলে সারা বছর তেল মাসাজ করে স্নান করা যায় না। তবে বছরভর এই নিয়ম মানতে পারলে শীতেও ত্বকে রুক্ষ হয় না। না পারলে এই সময়ের জন্য বেছে নিন নারকেল তেল। ভালো করে মাসাজ করে স্নান করুন। রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে। তার লালচে আভা ফুটবে দুই গালে।

৩. পায়ের পাতায় তৈলমর্দন

শীত মানেই পায়ের পাতা ফুটিফাটা। রাতে শুতে যাওয়ার আগে পাতায় বুলিয়ে নিন তেল, গ্লিসারিন বা ভারী ফুট ক্রিম। পা যেন পদ্ম।

৪. রোজ স্ক্যাল্পে তেল মাসাজ

সারাবছর গরমের জন্য তেল মায়কতে পারেন না! সারা শীত সেই অভাব পূরণ করে নিন। যত্ন নিন চুলের ঈষদুষ্ণ তেল স্ক্যাল্পে মাসাজ করে। তারপর হট টাওয়েল ট্রিটমেন্ট করতে পারলে আরও ভালো। গরম জলে তোয়ালে ডুবিয়ে নিংড়ে মাথায় বেঁধে রাখুন। কয়েকবার করলেই সারা মাথায় তেল বসবে। বা়ড়তি তেল উঠে যাবে। নারকেল তেলে জবাফুল, মেথি, পাতিলেবুর রস, আমলকির টুকরো, মেহেন্দি গুঁড়ো মিশিয়ে, ফুটিয়ে, ছেঁকে ব্যবহার করতে পারেনয চুল পড়া কমবে। কমবে খুশকি, অকালপক্কতাও। শীতে চুল থাকবে মখমলি।

৫. রাতে নাইট সিরাম

রাতে নিয়মিত নাইট সিরাম ব্যবহার করলে ত্বক থাকে আর্দ্র, নরম। উজ্জ্বল। বলিরেখা কমে ত্বকে বাসা বাঁধে তারুণ্য।

৬. ভারী লিপবাম ব্যবহার

সবার আগে ঠোঁট ফাটে শীতে। তাই শুকনো টান ধরলেই ঠোঁটে বুলিয়ে নিন লিপবাম বা ভেসলিন। সারাদিনের কত কথার সাক্ষী থাকে ওষ্ঠ-অধর।

৭. ডায়েটে নজর

মরশুমী ফল-শাক-সবজি থাক পাতে। রোজ খান ঘি-মাখন। বাদাম, সবুজ পাতাওয়ালা সবজি, আদা-হলুদ-গরমমশলা মেশানো গরমাগরম স্যুপ খান নিয়মিত। রোজ দুবেলা খান চব্যনপ্রাশ। যোগাভ্যাস করুন ভোরে বা বিকেলে। আর উপভোগ করুন শীতকে।